ঢাকা , রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যা বললেন শহীদ শাহরিয়ারের বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৫ ১৯:১৪:১২
সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যা বললেন শহীদ শাহরিয়ারের বাবা সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যা বললেন শহীদ শাহরিয়ারের বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ষষ্ঠতম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আব্দুল মতিন।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি বলেন, শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন আমার একমাত্র ছেলে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বেঁচে থাকার আগ্রহ নেই। আমার পরিবারটাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

এদিন জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার ছেলে শহীদ শাহরিয়ারের বয়স ছিল ১৮ বছর ৮ মাস উনিশ দিন। সে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষার ফাঁকে মিরপুর খালার বাসায় যায়। এরপর খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মিরপর-১০ গোল চত্বরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তার সহযোদ্ধারা তাকে প্রথমে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে আজমত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে থেকে ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমি তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। মোবাইলে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে অনেক বাধা পেরিয়ে ঢাকা আসি। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে দেখতে পাই।

জবানবন্দিতে আব্দুল মতিন বলেন, কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আমার ছেলের চোখের উপরে কপালে গুলি লেগে মগজের ভেতরে ঢুকেছে। গুলি বের করা যায় নাই। ডাক্তাররা অপারেশন করতে সাহস পায় নাই। আমার অনুরোধে তারা সিটিস্ক্যান করে। সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট দেখে ডাক্তাররা জানান রোগী যে অবস্থায় আছে, তাতে অপারেশন করা নিরাপদ হবে না। আমি ডাক্তারকে অনুরোধ করি আমি অন্য জায়গায় চিকিৎসা করবো, তাকে রিলিজ করে দিতে। তারা রিলিজ করে নাই। ২০ জুলাই দুপুর ২টা ৬ মিনিটে আমার ছেলেকে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যান্যদের কুপরামর্শে আমার ছেলেসহ সারাদেশে প্রায় ১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি চাই।

এদিন দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী সুমি আক্তার।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার স্বামী একজন খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই সকালে আন্দোলনে অংশ নিতে বাসা থেকে বের হন। বিকেলে তাকে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাই। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে একটি কল আসে। আমি তখন মিরপুর-২ নাম্বারে একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। মোবাইলে আমাকে জানায় আমার স্বামী অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। আপনি ঢাকা মেডিকেলে আসেন। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে জানায়, কথা বলা যাবে না। তখন আমি আমার দেবরদেরকে ফোন করে সব জানাই এবং ঢাকা মেডিকেলে যেতে বলি। আমিও আনুমানিক রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পৌঁছাই। যাওয়ার পথে রাস্তায় পুলিশ এবং আর্মিরা চেক করেছিল। সেখানে গিয়ে আমার দেবরদের দেখতে পাই। হাসপাতালে আমাকে কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখার পর ট্রলিতে করে আমার স্বামীর লাশ নিয়ে আসে এবং জানায় আমার স্বামী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এরপর আমার স্বামীর লাশ পটুয়াখালীস্থ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, পাঁচ আগস্টের পর জানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পরস্পর যোগাযোগ, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তে আমার স্বামীসহ সারাদেশে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়েছে। আমার একটি ছেলে সন্তান আছে। তার বর্তমান বয়স সাত বছর। আমি আমার স্বামীর হত্যার সাথে জড়িত সকলের বিচার চাই। সাক্ষী এ পর্যায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ